গত
২৮শে নভেম্বর ২০১৩’তে আমি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফারাবীকে নিয়ে। সেখানে
আমি লিখেছিলাম- “যেই হাটহাজারী মাদরাসার পত্রিকাতে লেখা ছাপা হওয়ার কারণে
ফারাবী ভাই অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন, সেই হাটহাজারী মাদরাসা থেকেই কিন্তু
হেফাজতের উত্থান। ফারাবী ভাইয়ের কি হেফাজতি নেতাদের নিকট থেকে তার পক্ষে
সামান্য বিবৃতি লাভের অধিকার ছিলনা?”
পুরো স্ট্যাটাসটি এই লিঙ্কে: https://www.facebook.com/rajdarbaar/posts/669015159810549
আমার সেই স্ট্যাটাসটিতে লাইক দিয়েছিল ফারাবী। তার এই লাইক দেখে হেফাজতিরা আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছিল তখন। ফারাবী তখনই আমাকে প্রাইভেট মেসেজ করে বলেছিল যে, হেফাজতিরা তাদের জন্য কিছুই করেনি। সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছিল তাদেরকে।
পুরো স্ট্যাটাসটি এই লিঙ্কে: https://www.facebook.com/rajdarbaar/posts/669015159810549
আমার সেই স্ট্যাটাসটিতে লাইক দিয়েছিল ফারাবী। তার এই লাইক দেখে হেফাজতিরা আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছিল তখন। ফারাবী তখনই আমাকে প্রাইভেট মেসেজ করে বলেছিল যে, হেফাজতিরা তাদের জন্য কিছুই করেনি। সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছিল তাদেরকে।
আমি তখন
ফারাবীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি, যেন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে
হেফাজতিদের মুনাফেকিগুলো সে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে। তাতে করে বহু
লোক এসব ভণ্ডদের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাবে।
কিন্তু তখন পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূলে। হেফাজতিদের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে আমি আমার বহু লাইকার হারিয়েছিলাম, বহু গালিগালাজ সহ্য করেছিলাম। এরকম প্রতিকূল অবস্থায় সত্য কথা বলার সাহস তার হয়নি।
তবে সম্প্রতি হেফাজত যেভাবে আওয়ামীদের বন্ধু বলেছে, তাদের টাকা গ্রহণ করার কথা অকপটে স্বীকার করেছে, তাতে করে তাদের ব্যাপারে আর লুকোছাপা করার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? ২০১৩’র নভেম্বরের দিকে আমি ফারাবীকে বহুবার বলেছিলাম, আমাকে হেফাজতিদের যেসব কথা মেসেজ করে বলা হয়েছে, সেসব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে। কিন্তু সে তখন তা না করায় আমি হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম। আর সেই ফারাবীই কিনা গত কয়েকদিন আগে নিজেই আমার কাছে পরামর্শ চাইল, সে হেফাজতিদের ব্যাপারে স্ট্যাটাস দিবে কি না?
আমি বললাম, অবশ্যই! সাধারণ মানুষ তাদের ব্যাপারে এখন পুরোপুরি জ্ঞাত।
কিন্তু আমি থ হয়ে গেলাম তার স্ট্যাটাসটি দেয়ার পর সেখানে হেফাজতিদের গালিগালাজ দেখে। তারা এতকিছুর পরও তাদের নেতাদের গোলামি করতে প্রস্তুত! এদেরকে দেখে আমার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ইরশাদ মুবারক স্মরণ হলো, “আমি মৃতকে জীবিত করেছি, কিন্তু নির্বোধকে বোধ দিতে পারিনি।”
পরিশিষ্ট: যারা বলছে যে, ফারাবী হেফাজতিদের বিরুদ্ধে কোন স্বার্থউদ্ধারের কারণে অপপ্রচারে নেমেছে, তাদের উত্তর দেয়ার জন্যই গত ছয়মাস আগে করা মেসেজের স্ক্রীনশটটি প্রকাশ করলাম। কারণ ফারাবী যেসব কথা বলেছে তার স্ট্যাটাসে, তা সাম্প্রতিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়। বহু আগে থেকেই সে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে বলতে চাইছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পারেনি। ফারাবী অনেক সময় ধরে হেফাজতিদের ব্যাপারে যে ক্ষোভ পুষে রেখেছিল, সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে তার স্ট্যাটাসে।
কিন্তু তখন পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূলে। হেফাজতিদের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে আমি আমার বহু লাইকার হারিয়েছিলাম, বহু গালিগালাজ সহ্য করেছিলাম। এরকম প্রতিকূল অবস্থায় সত্য কথা বলার সাহস তার হয়নি।
তবে সম্প্রতি হেফাজত যেভাবে আওয়ামীদের বন্ধু বলেছে, তাদের টাকা গ্রহণ করার কথা অকপটে স্বীকার করেছে, তাতে করে তাদের ব্যাপারে আর লুকোছাপা করার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? ২০১৩’র নভেম্বরের দিকে আমি ফারাবীকে বহুবার বলেছিলাম, আমাকে হেফাজতিদের যেসব কথা মেসেজ করে বলা হয়েছে, সেসব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে। কিন্তু সে তখন তা না করায় আমি হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম। আর সেই ফারাবীই কিনা গত কয়েকদিন আগে নিজেই আমার কাছে পরামর্শ চাইল, সে হেফাজতিদের ব্যাপারে স্ট্যাটাস দিবে কি না?
আমি বললাম, অবশ্যই! সাধারণ মানুষ তাদের ব্যাপারে এখন পুরোপুরি জ্ঞাত।
কিন্তু আমি থ হয়ে গেলাম তার স্ট্যাটাসটি দেয়ার পর সেখানে হেফাজতিদের গালিগালাজ দেখে। তারা এতকিছুর পরও তাদের নেতাদের গোলামি করতে প্রস্তুত! এদেরকে দেখে আমার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ইরশাদ মুবারক স্মরণ হলো, “আমি মৃতকে জীবিত করেছি, কিন্তু নির্বোধকে বোধ দিতে পারিনি।”
পরিশিষ্ট: যারা বলছে যে, ফারাবী হেফাজতিদের বিরুদ্ধে কোন স্বার্থউদ্ধারের কারণে অপপ্রচারে নেমেছে, তাদের উত্তর দেয়ার জন্যই গত ছয়মাস আগে করা মেসেজের স্ক্রীনশটটি প্রকাশ করলাম। কারণ ফারাবী যেসব কথা বলেছে তার স্ট্যাটাসে, তা সাম্প্রতিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়। বহু আগে থেকেই সে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে বলতে চাইছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পারেনি। ফারাবী অনেক সময় ধরে হেফাজতিদের ব্যাপারে যে ক্ষোভ পুষে রেখেছিল, সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে তার স্ট্যাটাসে।




![Photo: [ ক্রুসেডারদের চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে ]
------------------------------------------
হেফাজত নেতৃবৃন্দের সাথে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তার বৈঠক ১৩ দফা ও ক্বওমী শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা লাভ
করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ::
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক
কর্মকর্তা ক্যাথলিন গিবিলিস্কো এবং সহকারী রাজনীতি বিশেষজ্ঞ লুবাইন চৌধুরী মাসুম হেফাজতে ইসলামের
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছেন।
গতকাল (বুধবার) সকাল ১০টায় মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদ্বয় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। এসময় হেফাজত নেতৃবৃন্দ তাঁদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে আমীরের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর মার্কিন দূতাবাস
কর্মকতা হেফাজত নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা আনাস মাদানী, আমীরের
প্রেস সেক্রেটারী মাওলানা মুনির আহমদ,
যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা মুজাম্মেল হক প্রমুখ।
বৈঠকে মিসেস ক্যাথলিন হেফাজত নেতৃবৃন্দর কাছে সংগঠনটির ১৩ দফার আন্দোলন, নীতি আদর্শ, সাংগঠনিক তৎপরতা, গত বছরের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। হেফাজত নেতৃবৃন্দ এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার
পাশাপাশি সংগঠনের অরাজনৈতিক ও
শান্তিপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা কাউকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য বা নামানোর জন্য নয়। হেফাজতে ইসলাম মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদার
সুরক্ষার আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সমাজে শান্তি-
শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে।
হেফাজতে ইসলাম আল্লাহ, রাসূল ও ইসলামের অবমাননা রোধ, ঈমান-আক্বিদার সুরক্ষাসহ ইসলামী সংস্কৃতির উপর আঘাতহানা যেমন সহ্য করে না, তেমনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর
যে কোন হামলার ঘটনাকেও সমর্থন করে না। এর বাইরে হেফাজতে ইসলাম কখনোই কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িত হবে না।
এ সময় মিসেস ক্যাথলিন শাপলা চত্বরের
হতাহতের ঘটনা, বায়তুল মুকাররম এলাকায় পবিত্র কুরআন পোড়ানো এবং সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গীবাদ নিয়েও আলোচনা করেন। হেফাজত নেতৃবৃন্দ
শাপলা চত্বর এবং পবিত্র কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার করার জন্য সরকারের প্রতি বার বার দাবী জানানোর কথা তুলে ধরে বলেন, শাপলা চত্বরের এত বড়
ভয়াবহ ঘটনার পরও সারাদেশে বিশাল জনসমর্থন সত্ত্বেও কোন ধরণের সহিংসতায় না জড়িয়ে আমরা চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি।
কারণ, আমরা কখনোই সহিংস পন্থায়
দাবী আদায়ে বিশ্বাস করি না।
উলামায়ে কেরাম সমাজে শান্তি ও ন্যায়
বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জোর-জুলুম,
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় মিসেস ক্যাথলিন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। পবিত্র কুরআন
পোড়ানোর মতো ঘটনার সাথে হেফাজতের লোকজন জড়িত থাকতে পারে এমন অভিযোগ তখন ব্যক্তিগতভাবে আমারও বিশ্বাস হয়নি।
মার্কিন কূটনীতিক দারুল উলূম
হাটহাজারী মাদ্রাসার পাঠ্য পদ্ধতিসহ
কী কী বিষয়ে পড়ানো হয় এবং দেশ ও সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ক্বওমী শিক্ষা ব্যবস্থা,
সরকারী স্বীকৃতি এবং উলামায়ে কেরামের
সামাজিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কেও তিনি প্রশ্ন করেন। এ সময় হেফাজত আমীরের প্রেস সেক্রেটারী ও মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ মিসেস ক্যাথলিনের কাছে বাংলাদেশের উলামা-মাশায়েখ, ক্বওমী মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে মার্কিন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
অনুমতি ছাড়া কোন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। মিসেস ক্যাথলিন এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক পরিচালিত মাদ্রাসা সম্পর্কে হেফাজত নেতৃবৃন্দ কতটা অবহিত এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য
ক্বওমী মাদ্রাসা নেতৃবৃন্দের কোন প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগ্রহী কিনা জানতে চান। হেফাজত আমীরের প্রেস
সেক্রেটারী মাওলানা মুনির আহমদ জানান, আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। বৈঠক শেষে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এবং দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আন্তরিক আতিথেয়তা ও সহযোগীতার জন্য মার্কিন কূটনীতিক ধন্যবাদ জানান। বৈঠক শেষে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিদর্শন বইয়ে মিসেস ক্যাথলিন মন্তব্য লিখেন। বিদায় নেওয়ার আগে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাভবন, ছাত্রাবাসসহ কম্প্যাস পরিদর্শন করেন।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মার্কিন কূটনীতিক দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বিদায় নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।](https://fbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash3/t1/s403x403/1622686_773890079305634_185097789_n.jpg)