ধর্মনিরপেক্ষতাকে, সমাজতন্ত্রকে (সর্বোপরি হিন্দুত্বকে!) কেন্দ্র করে দেওবন্দের কথিত স্বাধীনতার ইতিহাস আবর্তিত হয়েছে।
----- দস্তার রাজদরবার 28 October 2013 at 22:02

দেওবন্দের সম্মেলনে রামদেবের হাত উঁচিয়ে সংহতি প্রকাশ করছে হুসাইন মদনির নাতি মেহমুদ মদনি
(আমার এই নোট শিক্ষিত সজ্জন মুসলমানদের জন্য। তারা এই নোটের বক্তব্যের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক দলিল পাবেন, পাবেন চিন্তার খোরাক। কোন দলান্ধ মূর্খ ব্যক্তি, যার নিকট দ্বীন ইসলামের তুলনায় নিজের প্রাতিষ্ঠানিক বা দলীয় মতাদর্শ প্রাধান্য পায়, তাদেরকে এই নোটের আলোচনার পরিবেশ নষ্ট না করার উপদেশ দিচ্ছি)
ইতিহাস হলো বহমান নদীর ন্যায়। সেই নদীর স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা, যারা সিংহাসনে আসীন থাকে। সাধারণ মানুষ তাদের হাতের পুতুল মাত্র। তারা তাদের অতীত ইতিহাস দেখে ক্ষমতাসীনদের চোখ দিয়ে, কিংবা তারা যেভাবে চায়।
দেওবন্দীদের বর্তমান হালহাক্বীকত তুলে ধরায় তারা এখন অনেকখানিই বিপর্যস্ত। কারণ ডুবন্ত জাহাজকে আঁকড়ে ধরে থাকলে মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই। তাদের অনেকেই তাদের অতীত ইতিহাস নিয়ে নানাভাবে মানুষকে বুঝিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেদেরকে দাবি করছে ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের হর্তাকর্তা হিসেবে। এখন বিষয়টি হলো, গান্ধীও স্বাধীনতা চেয়েছিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা চেয়েছিল কমিউনিস্টরাও। তারা কিন্তু মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত নয়, অথবা বলা যায় তারা মুসলমানদের জন্য স্বাধীনতা চায়নি। তারা স্বাধীনতা চেয়েছিল মুসলমানদের ওপর যুলুমনির্যাতন চালাতে।
ঠিক সেভাবেই দেওবন্দের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা স্বাধীনতা চেয়েছিল, জেল খেটেছিল হিন্দুদের জন্য, ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য। এমনকি কমিউনিজমের জন্যও! ইসলামের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্য তো নয়ই। সুতরাং মুসলমানদের কর্তব্য হলো, তাদের হাক্বীকত সম্পর্কে জানা। যেন তারা তাদের কর্মপন্থা ঠিক করে নিতে পারে।
প্রথম আলোচনা
১৯৩৯ সালে বাংলাদেশের রংপুরে কংগ্রেসের তরফ থেকে একটি পুস্তিকা বিতরণ করা হয়। সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে মুসলমানদের সমর্থনলাভের উদ্দেশ্যে দেওবন্দী মৌলভীদের দোহাই দেয়া হয়। পুস্তিকাটিতে লেখা ছিল
১৮৮৮ সালে.... মুসলমানরা.....সে যুগের উলেমাগণের নিকট জানতে চান.....মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দুদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা যথার্থ কিনা...... এর জবাবে সেই ১৮৮৮ সালে শত শত উলেমা যেমন, এনামুল উলেমা কুতুবুল আহতাব, হযরত শাহ রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি....মাওলানা মাহমুদ হাসান একে যথার্থ বলে দাবি করেন। (সূত্র: বাঙলা ভাগ হলো, জয়া চ্যাটার্জি)
আমরা জানি, কংগ্রেস নামক দলটি ব্রিটিশআমলে ভারতবর্ষের হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করত। ব্রিটিশআমলে অসংখ্য মুসলিম নিধনকারী দাঙ্গার হোতা হল এই কংগ্রেস। বঙ্গভঙ্গ রদের সময়ই এতদাঞ্চলের মুসলমানরা তাদের আসল চেহারা বুঝে গিয়েছিল, অনেক মুসলমান সন্তান যারা ভুল বুঝে কংগ্রেসের নৌকায় উঠেছিল তারা পরবর্তীতে তা পরিত্যাগ করে।
কিন্তু এই কংগ্রেসই মুসলমানদের সমর্থনে ভারতবর্ষের বিরাট মুসলিস অধ্যুষিত অঞ্চল দখলে নিল। কারণটা কি? কারণটা হলো এই দেওবন্দ। তারা দ্বীন ইসলামের আহবানকে অস্বীকার করে, গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে গান্ধীর আহবানে ফতোয়া দিয়ে, হিন্দুর সাথে গলায় গলা মিলিয়ে স্বাধীনতা(!) অর্জন করতে বলায় তখনই তাদের ধর্মের বারোটা তো বেজেছিলই, স্বাধীনতাও যে তারা পায়নি তা এখন ভারতের মুসলমানদের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।
দেওবন্দের কথায় অখণ্ড ভারত সমর্থন করে ভারতের মুসলমানদের আমছালা দুটোই গিয়েছে, কারণ তাদের দেওবন্দী ওস্তাদরা স্বাধীনতার(!) স্বার্থে এই বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করেছে যে, “কাফির মুশরিকরা মুসলমানদের শত্রু। তারা কখনো মুসলমানদের ভাল চাইবে না।”
দ্বিতীয় আলোচনা

আগের আলোচনা নিয়ে অনেকে গাঁইগুঁই করতে পারে। সারাদিন মালউনের তোয়াজ করা ভারতীয় দেওবন্দীদের বিরোধিতা করতে গিয়ে মালউন মহিলার বইয়ের সূত্র দিয়েছি আমি! যদিও সূত্রের তথ্যটি আদতে তৎকালীন সময়ে এহসানুল হক এফেন্দীর নামক একজনের রচিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও মুসলমানদের কর্তব্য’ নামক বইয়ের থেকে নেয়া হয়েছে, তবু দলকানা দেওবন্দীরা তা মানবে কেন? তবে আমি আগেই বলে নিয়েছি, এই লেখাটি শিক্ষিত সচেতন মুসলমান ভাইদের জন্য। যারা এক আধটু পড়াশোনা করেন, তারা বুঝবেন আমি কোন যেনতেন জায়গা থেকে রেফারেন্স দেইনি। বরং আমি বলব, উপরের বইটি সব মুসলমানের পড়া উচিত। কারণ বইটি লেখাই হয়েছে বাংলা ভাগের পেছনে হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতা যে মূলত দায়ী, মুসলমানরা যে দায়ী নয় তা প্রমাণ করে।
যাই হোক এবার পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে রেফারেন্স দেব। এবার আলোচনা করব উবাইদুল্লাহ সিন্ধিকে নিয়ে। যার দোহাই দিয়ে দেওবন্দীরা স্বাধীনতা আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে।
কিন্তু ডন পত্রিকাতে বলা হয়েছে, মাও. উবাইদুল্লাহ সিন্ধি ছিলেন সেসব লোকদের একজন, যারা প্রথমদিকের সময়টাতে লেনিনের কমিউনিস্ট আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলেন!
IS Islam compatible with socialism? The question is asked because tomany ‘socialism’ means an atheistic philosophy, and at the very core of Islamicteachings is the belief in one God. How can then Islam and socialism gotogether?
However, this is not the correct view. Many noted ulema had acceptedsocialism as an essential part of Islamic teachings. In India, Maulana HasratMohani and Maulana Ubaidullah Sindhi enthusiastically supported the communistmovement. Maulana Mohani was one of the founders of the Communist Party ofIndia.
Maulana Ubaidullah Sindhi, who had migrated to Afghanistan during theKhilafat movement and had formed a transition government there along withMahendra Pratap Singh, left for Russia when the king of Afghanistan came underpressure from the British to expel the members of this government. In Moscow theymet Lenin and discussed with him the strategies to fight British colonialism.Maulana Sindhi returned to India only in the early 1940s.
সূত্র: ১) http://dawn.com/news/642407/of-socialism-and-islam
Chased by the authorities during the First World War, Sindhi escaped to Kabul, and from Kabul he traveled to Russia where he witnessed the unfolding of the 1917 Bolshevik Revolution.
He stayed in Russia till 1923 and spent most of his time discussing politics and ideology with communist revolutionaries and studying socialism.
Impressed by the chants of economic equality and justice during the violent revolution, Sindhi, who remained being a Deobandi Sunni Muslim, dismissed communism/Marxism’s emphasis on atheism.
From Russia Sindhi traveled to Turkey and it was from Istanbul that he began to give shape to his ideas of Islamic Socialism through a series of writings especially aimed at the Muslims of India.
He urged Muslims ‘to evolve for themselves a religious basis to arrive at the economic justice at which communism aims but which it cannot fully achieve.’
সূত্র: http://dawn.com/news/787645/islamic-socialism-a-history-from-left-to-right
এখানে স্পষ্টতই বলা হয়েছে, মাও. সিন্ধি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমর্থনকারী ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি মুসলমানদের কমিউনিজমের প্রতি আগ্রহী করতে লেখালেখি করেছেন তারও প্রমাণ রয়েছে।
উইকিতে মাও. সিন্ধি সম্পর্কে দেয়া হয়েছে আরো চমকপ্রদ তথ্য। নিন্মে উইকি থেকে নেয়া বাক্যগুলো যদিও দেওবন্দীদের দ্বারা রচিত হয়েছে, তবুও সেখানে বলা হয়েছে তিনি লেনিনের সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েও দেখা করতে পারেননি লেনিনের অসুস্থতার জন্য, কিন্তু তিনি রাশিয়াতে প্রায় সাতমাস অবস্থান করেছিলেন রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে। সেসময় তিনি কমিউনিজম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেন।
Ubaidullah proceeded to Russia, where he spent sevenmonths at the invitation of the Soviet leadership, and was afforded officialtreatment as a guest of the state. During this period, he studied the ideologyof socialism.
পাঠক, একটু মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন যে, কমিউনিস্ট আন্দোলনকে সমর্থন ও তাকে ছড়িয়ে দেয়ার কারণেই মাও. সিন্ধিকে রাশিয়া রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে সাদর সম্ভাষণ দিয়ে নিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মাও. সিন্ধির স্বাধীনতার চেতনা ছিল অনেকটাই সমাজতন্ত্র মিশ্রিত! দ্বীন ইসলাম যা আদৌ সমর্থন করেনা। সুতরাং তা নিয়ে দেওবন্দের গলাবাজি নিতান্তই বিরক্তিকর ও তাদের মূর্খতার পরিচায়ক। মাও. উবাইদুল্লাহ সিন্ধি মুসলমানদের অনুসরণীয় হতে পারেন না। তাছাড়া তার মূল সহযোগী ছিল আর্যসমাজের সাথে জড়িত মহেন্দ্রপ্রতাপ। বর্তমানে হিন্দু পেজগুলোতে বিশেষভাবে ইসলামকে টার্গেট করে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেগুলো কিন্তু আর্যসমাজী মতাদর্শের অনুসারীরাই দিচ্ছে। ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার জন্য (ইসলামের জন্য নয়?) দেওবন্দীরা ব্রিটিশভারতে হিন্দু কিংবা কমিউনিস্ট, কারো সাথে তাল দিতে বাকি রাখেনি।
মাওলানাদের কমিউনিস্ট হয়ে ওঠার বিষয়টি অনেকের নিকট অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তাদের জানা দরকার যে মাও. ভাসানীও ছিলেন সক্রিয় পিকিংপন্থী কমিউনিস্ট। তার উপাধিই ছিল, ‘লাল মাওলানা’। বাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের জনক কমরেড মুজফফরও মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।
এটি আমার আলোচনার প্রথমপর্ব। নোটের কলেবর বৃদ্ধি হয়ে যাচ্ছে দেখে দ্বিতীয়পর্বে (হিন্দুদের) স্বাধীনতার জন্য হোসাইন মদনীর ধর্মনিরপেক্ষ(ইসলামিক নয়) জাতীয়তাবাতী আদর্শের বিষয়টি তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন