দেওবন্দের বার্ষিক সম্মেলন
Farabi Shafiur Rahman
ভাইয়ের স্ট্যাটাসের কারণে আপনারা সবাই পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়টি অবগত
হয়েছে। সে এদেশের আলেম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বলেছে, “হে পশ্চাৎপদ
মোল্লা মৌলভী, বল বন্দে মাতরম!” আপনারা সবাই এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন।
কারণ ‘বন্দে মাতরম’ একটি শিরকী স্লোগান। মুসলিমবিদ্বেষে ভরপুর
বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ অপন্যাসের অন্তর্গত এই পদটির অর্থ, ‘দেবীর বন্দনা
করি’।
এবার আপনাদের সামনে এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করব যা দেখলে
আপনাদের অনেকেই প্রতিবাদ তো দূরের কথা, বরং কিভাবে মুসলমানিত্ব বজায়(!)
রেখে বন্দে মাতরমের বৈধতা দেয়া যায়, তার গবেষণায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন।
দেওবন্দের বার্ষিক সম্মেলনগুলোতে ভারতের কথিত নামকরা যোগী ও পুরোহিতদের
নিমন্ত্রণ করে আনা হয়। তাদের মধ্যে যোগগুরু রামদেব ও ছি ছি রবিশঙ্করের মত
লোকেরাও রয়েছে। এদের পদধুলি দেওবন্দের মাটিতে পড়ায় এদেশের দেওবন্দীদের
ভারতীয় টপ লিডাররা এতটাই আহ্লাদিত হয়েছে যে, তারা তাদের মনোরঞ্জনে দ্বীন
ইসলামকে তুচ্ছ করে শিরককে প্রাধান্য দিয়ে যোগবিদ্যা থেকে শুরু করে বন্দে
মাতরমের পক্ষে ফতোয়া দিতেও কুন্ঠাবোধ করেনি! শুধু তাই নয়, সেসব ফতোয়া দেয়া
হয়েছে খোদ দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া সেকশন দারুল ইফতা থেকে। সুতরাং তার
দায়ভার দেওবন্দ নামক প্রতিষ্ঠানের ওপরেই বর্তায়, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির
ওপর নয়।
দেখুন টিভি ক্যামেরার সামনে তাদের বক্তব্য: www.youtube.com/watch?v=09LHFlyUDYY
এই ফতোয়া নিয়ে তাদের প্রেস রিলিজে তারা বলেছে
'Ulemas won't stop Muslims from singing Vande Mataram'
লিঙ্ক: http://twocircles.net/2009nov09/ulemas_wont_stop_muslims_singing_vande_mataram.html
(লিঙ্কটি ভারতীয় মুসলমানদের দ্বারা চালিত একটি নিউজ পোর্টালের, কোন হিন্দুচালিত সংবাদ সংস্থার নয়)
যে ইংরেজি পড়তে পারে, সে খবরটি দেখেই বুঝতে পারবে। ‘দেওবন্দী উলামারা মুসলমানদের বন্দে মাতরম বলায় বাধা দিবেনা।’
এখন বলুন পাঠকরা, এদেশের দেওঅন্ধরা যে বড়গলায় দাবি করে,দেওবন্দীরা নাকি
শেরেক বেদাতের বিরুদ্ধে জিহাদ(!) ঘোষণা করেছে। অথচ তাদের ভারতীয় ওস্তাদরা
সব হিন্দুদের পদধূলি মাথায় নিয়ে দ্বীন ইসলামকে ব্যবহার করে ভারতীয়
মুসলিমসমাজে শিরকী স্লোগান চালু করতে মত্ত! শুধু তাই নয়, যে যোগবিদ্যা
হিন্দুশাস্ত্রের একটি শাখা, সেই যোগবিদ্যাকেও বৈধতা দিয়ে ফতোয়া দিয়েছে
দারুল উলুম দেওবন্দ, আরেক হিন্দুগুরু রামদেবের অনুরোধে। তারা এটি বলতেও
দ্বিধা করেনি, “নামায হলো যোগসাধনার একটি বিশেষ রূপ”।(নাউযুবিল্লাহ মিন
যালিক!)
একটু চিন্তা করুন পাঠকরা, হিন্দুরা যে দাবি করে তাদের মিথ্যা ধর্ম থেকে আমাদের ধর্মটা এসেছে, তা কি দেওবন্দীরা সমর্থন করছে না?
রামদেব সম্পর্কিত নোটের লিঙ্ক: http://tinyurl.com/knfxhts
এখন বলুন দেওবন্দী ভক্তরা। আপনারা যদি এসবের প্রতিবাদ না করে শুধুমাত্র
পীযূষের প্রতিবাদ করেন, তা কি ভণ্ডামি নয়? দেওবন্দীদের ফতোয়া অনুযায়ী
পীযূষের আহবান তো ঠিকই আছে। আফসোস, এগুলো কেমনতর মাওলানা? যারা মালউনদের
সন্তুষ্ট করতে নিজের ধর্মকে পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়?
সিরাজউদ্দৌলা
ইংরেজদের বিরোধিতা করতে গিয়ে সফল হয়নি, কারণ সে তার প্রাসাদে মীরজাফরের
অবস্থান মেনে নিয়েছিল। ঠিক সেভাবে দেওবন্দকে প্রশ্রয় দিয়ে আপনারা কিছুতেই
হিন্দুদের জুলুমনির্যাতন থেকে রেহাই পাবেন না। কারণ এই দেওবন্দই ফতোয়া
দিয়েছে, হিন্দুদের কাফির বলা যাবে না।(নাউযুবিল্লাহ) হিন্দুরাই যদি কাফির
না হয় তাহলে কাফিরটা কে? ঘরের শত্রু বিভীষণ রেখে কি যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়???
শেষে একটি কথাই বলব, তাহলো যারা এতকিছুর পরও সেই ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে
চলবে, দেওবন্দ মানেই ইসলাম(!) তাদের বোঝা উচিত, এরকম অন্ধ প্রতিষ্ঠানপূজা
কেবলমাত্র আমাদের উপমহাদেশেই দেখা যায়। উপমহাদেশের বাইরে যেসব মুসলমান
ভাইয়েরা রয়েছে তারা আমাদের তুলনায় অনেক অনেক এগিয়ে গিয়েছে কারণ তাদের
চিন্তাচেতনা কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেকলে বাঁধা নেই, কিন্তু আমরা যে
তিমিরে সে তিমিরেই পড়ে রয়েছি। দেওবন্দীদের কারণে আসাম আমাদের হাতছাড়া
হয়েছে, কলকাতা আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। সেসব জায়গায় প্রতিনিয়ত দাঙ্গায় বহু
মুসলমান শহীদ হচ্ছে। অচিরেই দেওবন্দীদের কারণে আপনারা দেখবেন ভারতীয়
মুসলমানদের একটি বড় অংশ নরেন্দ্র মোদীকে সাপোর্ট দিচ্ছে, যা আমি আগের
স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছি।
মুসলমানরা ফিকির করুন, আপনার নিকট ইসলাম
বড়, মুসলমান বড়, মুসলমান মা বোনদের ইজ্জত বড়? না দেওবন্দ ও তাদের অন্ধ
অনুসরণ বড়? ফিকির করুন, কিছুক্ষণ চিন্তাফিকির করাটা ষাট বছর নফল ইবাদতের
চেয়ে উত্তম। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে হিদায়েত নসীব করুন। আমীন।
মুসলমানের সাথে মুসলমানের ঐক্য হয়, মোদীভক্তের সাথে কিংবা বন্দে মাতরম সমর্থনকারীদের সাথে নয়।
মোদীকে
সমর্থন করতে গিয়ে যেখানে দেওবন্দীরা ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে দুভাগে ভাগ
করে দিচ্ছে, সেখানে পোস্টদাতাকে দোষারোপ করার কোন যৌক্তিকতা নেই। (http://goo.gl/NKBMBt)
তসলিমাকে
বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে এসে তাকে সমর্থন করাটা কোন কৌশলের
অন্তর্ভূক্ত? যেখানে তসলিমা কিনা এখনো ইসলামবিদ্বেষী লেখালেখি করে যাচ্ছে।
একটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করবেন, তাহলো আপনাদের মত সাধারণ মানুষদের অন্ধভক্তিই এসব ধর্মব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
http://ns.bdnews24.com/bangla/details.php?id=69508&cid=21
//যে
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তসলিমার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তার নেতা মৌলানা
মেহমুদ মাদানি জানান, "পবিত্র ইসলামেই আছে, কোন ব্যক্তি ক্ষমা চাইলে তাকে
ক্ষমা করে দেওয়াই উচিত। তসলিমা যখন ক্ষমা চেয়েছেন, তখন তাকে ক্ষমা করে
দেওয়াই ঠিক কাজ হবে। তিনি যেখানে থাকতে চান, সেখানেই তাকে থাকতে দেওয়া
হোক।"
ক'দিন অগে এই মৌলানাই তসলিমাকে ভারত থেকে অন্যত্র পাঠানোর দাবিতে সরব ছিলেন
দস্তার রাজদরবার
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন